- দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ঠিক ৭টা ৪৫ মিনিটে একযোগে অনলাইনে এই ফল প্রকাশ করা হয়। কাঙ্ক্ষিত কলেজে সুযোগ পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝেই যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনি জিপিএ-৫ পেয়েও আসন না পাওয়ায় অনেকের মাঝে তৈরি হয়েছে হতাশা। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণির আনুষ্ঠানিগুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ভর্তি নিশ্চায়ন প্রক্রিয়যেসব শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কলেজ পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের ভর্তি নিশ্চায়ন (Nischayon) করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযভর্তি নিশ্চায়নের শেষ সময আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।
মাইগ্রেশনের ফলাফল: শিক্ষার্থীদের দেওয়া পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টায় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে।
চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
- আসন বনাম আবেদন: জিপিএ-৫ পেয়েও বঞ্চিত ২ সহস্রাধিক!সারাদেশে কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য সর্বমোট আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। এর বিপরীতে এবার আবেদন করেছিলেন প্রায় ১০ লাখ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষারপ্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী।
পর্যাপ্ত আসন থাকা সত্ত্বেও, নির্দিষ্ট পছন্দক্রম ও প্রতিযোগিতার কারণে আবেদন করে কোনো আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আসন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা এসএসসিতে 'জিপিএ-৫' পেয়েছিলেনআবেদন প্রক্রিয়ার আদ্যোপান্ত ও নিয়মনীতগত ২ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে (এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে) শুরু হয়েছিল একাদশ শ্রেণির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। কোনো প্রকার ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই মাত্র ২২০ টাকা ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এই আবেদন করনিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তনেরও সুযোগ পশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কড়া হুঁশিয়ারি ও বিগত পরিসংখ্যভর্তি নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— সংশ্লিষ্ট বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে বা ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু করতে পারবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে, তবে তাদের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন, যার মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তবে অবাক করা তথ্য হলো, উত্তীর্ণদের মধ্যে পৌনে দুই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো আববিশেষ সতর্কতা ও আমাদের শিক্ষণীয়
জীবনে সফলতার জন্য নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শেষ কথা নয়। যারা প্রথম ধাপে কাঙ্ক্ষিত কলেজে সুযোগ পেয়েছো, তাদের জন্য রইলো শুভকামনা। কিন্তু যারা জিপিএ-৫ পেয়েও আসন পাওনি বা পছন্দের কলেজ পাওনি, তাদের হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। পরবর্তী ধাপগুলোতে তোমরাও সুযোগ পাবে। মনে রাখবে, একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার চেয়ে মনোযোগ দিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, এই সময়ে সন্তানদের ওপর কোনো মানসিক চাপ সৃষ্টি না করে তাদের পাশে থাকুন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ই একদিন তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।